হোম ডেলিভারি

সমগ্র বাংলাদেশ

বছর জুড়ে

বিশেষ মূল্যছাড়

পাঠক সেবা

কল সার্ভিস

Product on sale

উপন্যাস সমগ্র : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

Original price was: 500৳.Current price is: 375৳.

প্রিন্ট / প্রকাশনী: মাটিগন্ধা

2 in stock
  • Check Mark Estimated Delivery : Up to 3 business days
  • Check Mark Free Shipping : On all orders over 2000 BDT

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মেছিলেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল নোয়াখালী। বাবা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ সেই আমলে এমএ পাস করে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন। মা নাসিম আরা ছিলেন আরও বেশি বনেদি পরিবারের মেয়ে। নাসিম আরার পিতা, ওয়ালীউল্লাহর মাতামহ ছিলেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে পাস করা আইনশাস্ত্রের গ্র্যাজুয়েট। বড় মামা কেবল উচ্চশিক্ষিতই  ছিলেন না, কর্মজীবনের কৃতিত্বে পেয়েছিলেন ‘খান বাহাদুর’ উপাধি। ওয়ালীউল্লাহর বড় মামি ছিলেন নওয়াব আবদুল লতিফের পরিবারের মেয়ে, উর্দু ভাষার লেখিকা। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প-নাটকের উর্দু অনুবাদ করেছিলেন বলে জানা যায়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কুড়িগ্রাম হাইস্কুল থেকে ১৯৩৯ সালে মাধ্যমিক, ১৯৪১-এ ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে এমএ ভর্তি হন। কিন্তু পড়ালেখা শেষ না-করেই ১৯৪৫ সালে ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এ চাকরি শুরু করেন। এ বছরই তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়নচারা’ প্রকাশ পায় কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্যের পূর্বাশা লিমিটেড নামের প্রকাশনা থেকে। উল্লেখ্য, এই বইয়ের নামগল্পটিও প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার পাতায়। এই সময় সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সঞ্জয় ভট্টাচার্য প্রমুখ বিখ্যাত লেখকের সঙ্গে তরুণ লেখক ওয়ালীউল্লাহর পরিচয় হয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগ হলে ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এর চাকরি ছেড়ে তিনি ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রের সহকারী বার্তা সম্পাদকের পদে নিয়েজিত হন। পরের বছরই প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)। এবং এ বছরই রেডিও করাচির বার্তা সম্পাদকের চাকরি নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। এরপর পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও সিডনির পাকিস্তান দূতাবাসের সেক্রেটারি পদমর্যাদায় চাকরি করেন। সিডনিতে থাকতেই ফরাসি দূতাবাসের তরুণী আন-মারি লুই রোজিতা মার্সেল তিবো’র সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম জন্মে। এরপর ওয়ালীউল্লাহ্ ঢাকায় ফিরে এলেও কিছুদিনের মধ্যেই আবার বদলি হন করাচিতে। এ সময়, ১৯৫৫ সালের ৩ অক্টোবর আন-মেরির সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এ-বছরই ‘বহিপীর’ নাটকের জন্য পিইএন পুরস্কার পান সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্, যদিও এই নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরও পাঁচ বছর পরে, ১৯৬০ সালে। এরপর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ জাকার্তা, লন্ডন, বন এবং সবশেষ প্যারিসে চাকরি করেন। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘চাঁদের অমাবস্যা’ এবং নাটক ‘সুড়ঙ্গ’। পরের বছর প্রকাশ পায় ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক এবং ‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প’ নামের গল্পের বই। প্যারিসে থাকা অবস্থায়, ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট লন্ডনের শ্যাটো এ্যান্ড উইন্ডাস পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয় ‘লালসালু’র ইংরেজি অনুবাদ ‘Tree Without Roots’। এর আগেই অবশ্য উপন্যাসটির আন-মারি কৃত ফরাসি অনুবাদ ‘র্লাব্র্ সাঁ রাসিন্’ (L‍‍`Arbre sans racines) প্রকাশ পেয়েছিল। ১৯৬৮ সালের মে মাসে ঢাকা থেকে বের হয় উপন্যাস ‘কাঁদো নদী কাঁদো’। ‘The Ugly Asian’ ওয়ালীউল্লাহর মৌলিক ইংরেজি উপন্যাস। প্রকাশিত দুটো গল্পগ্রন্থের বাইরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ৩২টি গল্পের সন্ধান পেয়েছেন সৈয়দ আবুল মকসুদ ও সৈয়দ আকরম হোসেন। এ ছাড়া ১৯৬৩ সালে ‘উজানে মৃত্যু’ নামে একটি নাটক প্রকাশিত হয়েছিল সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকায়।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ইসলামাবাদে বদলির প্রস্তাব দিলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের তখনকার রাজনৈতিক সংঘাতের কথা মাথায় রেখে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তা গ্রহণ করেননি। আর্থিকভাবে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েও, তিনি বরং ফ্রান্সে থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করেছেন। বেকার থেকে, সামান্য হলেও অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন কলকাতার মুক্তিযুদ্ধ তহবিলে। দেশের যুদ্ধপরিস্থিতি ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর ১০ অক্টোবরের গভীর রাত্রে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মারা যান। স্বাধীনতার পরে, বাংলাদেশের তখনকার রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী একটি বার্তায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর স্ত্রী আন-মারিকে লেখেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে মি. ওয়ালীউল্লাহর মাপের প্রতিভার সেবা গ্রহণ থেকে এক মুক্ত বাংলাদেশ বঞ্চিত হল; আমাকে এটুকু বলার সুযোগ দিন যে আপনার ব্যক্তিগত ক্ষতি বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষতি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়কার উপাচার্য, বিচারপতি এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর স্কুলবন্ধু আবু সাঈদ চৌধুরীর এই বক্তব্য যে আক্ষরিকভাবেই সত্য, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মৃত্যুর পরে ১৫ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে কলকাতার দেশ পত্রিকায় সমসাময়িক কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান বলেছিলেন, ‘বাঙালি মুসলমানের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার পেছনে সত্যিকার চেতনা নির্মাণের দায়িত্ব যারা নিয়েছিলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁদের অন্যতম মহৎ কারিগর।’ কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর আগে মুসলিম সম্প্রদায়ে জন্ম নেওয়া কোনো কথাশিল্পী এতটা আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার সঙ্গে বাংলা কথাসাহিত্যের মূলধারার লেখক হিসেবে এমন সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হননি। বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় তাঁকে জগদীশ গুপ্ত (১৯০৮-১৯৫৬) ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৯০৮-১৯৭১) সফল উত্তরসূরি মনে করা হয়। কেউ কেউ সতীনাথ ভাদুড়ীর সঙ্গেও তুলনা করেছেন। কেউ আবার অস্তিত্ববাদী দর্শনের পুরোধা জাঁ পল সাঁত্র এবং আলবেয়ার কামুর প্রভাবের কথাও বলেছেন। অস্তিত্ববাদী দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রচনায় ‘Stream of consciousness’ বা চেতনার অন্তঃশীল প্রবাহরীতির চমৎকার প্রয়োগ রয়েছে। অতএব, এ কথা বলা চলে যে শিল্পচেতনার ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একই সঙ্গে দৈশিক ও আন্তর্দৈশিক পর্যায়ের।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “উপন্যাস সমগ্র : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ”

Your email address will not be published. Required fields are marked *