ক্ষণিকা -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রিন্ট / প্রকাশনী: সূর্যোদয়
- Estimated Delivery : Up to 3 business days
- Free Shipping : On all orders over 1500 BDT
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের প্রাতিস্বিক বৈশিষ্ট্য এখানেই যে, জীবনের
ক্ষণিকবোধের উজ্জীবনের কথা বলতে বলতে কবি এই গ্রন্থে বৃহত্তর মানব ও
স্রষ্টাচৈতন্যের অসীমতাকে তাঁর কাব্য-দার্শনিক সজ্ঞায় (intuition) স্বাতন্ত্রিকভাবে
বিধৃত করেছেন।
‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের ‘উদ্বোধন’ কবিতায় কবি হালকা চালে তাঁর কাব্যানুভব
অভিব্যক্ত করলেও মানবজীবন চলার পথের স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততাকে তিনি অবলীলায়
তাঁর কাব্যান্তরে সাবলীলভাবে স্থান দিয়েছেন। অকারণ পুলকে যদিও ক্ষণিকের গান কবি
গাইতে চেয়েছেন এ কবিতায়, তাকে অকারণ না বলে সেটিকেই আসলে জীবনের
স্বতঃস্ফূর্ত কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় বলে আমি মনে করি । জীবনে যা-ই আসুক, যা
হবার হোক, যা বোঝা হয়নি তা না বোঝাই থাকুক, যা জুটেনি তা না-ই জুটলো—এমন
একটি সহজভঙ্গিতে জীবনোপভোগের যে স্বতঃস্ফূর্ত উৎকাঙ্ক্ষা, তা-ই এ কবিতায় ব্যক্ত
হয়েছে। যখন যা পাওয়া যায়, তা দিয়েই আশা মিটিয়ে নিতে এবং যখন যা ফুরাতে চায়,
সেটিকে তখন ফুরিয়ে দিতে এবং যা সহজভাবে জীবনের সামনে রয়েছে, সেটিকে বুকে
স্থান দেয়ার অনুভব ব্যক্ত করে কবি বলেন :
“ধরণীর ’ পরে শিথিল-বাঁধন
ঝলমল প্রাণ করিস যাপন,
ছুঁয়ে থেকে দুলে শিশির যেমন শিরীষ ফুলের অলকে।
(উদ্বোধন)
নদীর জলের মধ্যে পড়া আলোর ঝলকে ঝলকে জীবনের পথে প্রান্তরে ভারহীনভাবে
ছুটে চলে শিথিল বাঁধনে ধরণীর জীবনকে প্রাণবন্তভাবে যাপন করার কথা বলে রবীন্দ্রনাথ
আসলে জীবনের দুঃখময়তার গুরুভারকে একটি স্বাভাবিকতার স্বাচ্ছন্দ্য দিয়ে যাপনের
দার্শনিক আকাঙ্ক্ষা (Philosophical Aspiration) অভিব্যক্ত করেছেন বলে আমি
মনে করি। ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের ‘যথাস্থান’ কবিতায় কবি তাঁর গানের অর্থাৎ তাঁর
কাব্যযাত্রার স্থান কোথায়, তা নির্ধারণের জন্যে তাঁর গানের মান, ত্রাণ বা মুক্তি এবং
প্রাণময়তার সীমান্ত অনুসন্ধানে ব্যাপৃত হয়েছেন। নবীন ছাত্ররা অপাঠ্য সব বইয়ের চাপে
যারা অখুশি; কর্তৃজনের ভয়ে তাদের কাব্যবোধের দোলনা কুলুঙ্গিতে তোলা রয়েছে—তাই
সেখানেও কবির গানের স্থান হচ্ছে না। যারা কাব্যবোদ্ধা এবং সঙ্গীতপ্রেমিক—এমন
সমঝদাররাই কবির গানের মূল্যায়ন করতে সমর্থ হবেন। তরুণযুগলেরা যেমন তাদের
Reviews
There are no reviews yet.