দ্বৈরথ – হুমায়ূন আহমেদ
প্রিন্ট / প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ
- Estimated Delivery : Up to 3 business days
- Free Shipping : On all orders over 1500 BDT
“দ্বৈরথ”বইটির প্রথমের কিছু কথা:
বাথরুমের দরজা খােলা। লােকটা অনেকক্ষণ ধরে বাথরুমে। বিশ্রী রকমের একটা আওয়াজ আসছে। “রল-গল-গরল। একজন মানুষ এমন কুৎসিত শব্দে গার্গল করে কীভাবে ? সুন্দর শােভন কিছুই কি মানুষটার নেই ?
সােমা হাই তুলল। মাত্র নটা বাজে। এর মধ্যে হাই ওঠার কথা না। কিন্তু এই মানুষটি আশেপাশে থাকলে তার হাই ওঠে। লােকটি অবশ্য বুঝতে পারে না। হাই ওঠার সঙ্গে যে অবহেলার একটা ব্যাপার আছে, তা বােধহয় সে জানেও না। জানলেও তার হয়তাে কিছু যায় আসে না।
:সােমা ! | লােকটার গলার স্বর অবশ্য মিষ্টি। না, মিষ্টি বলাটা ঠিক হচ্ছে না। পুরুষদের গলা মিষ্টি হয় না। ধাতব একটা ঝংকার শুধু থাকে। এই লােকের তা আছে। শুনতে ভাল লাগে। কথা শুনলে জবাব দিতে ইচ্ছে করে।
:এই সােমা ! ৪ আসছি। ও একটু লবণ দাও। ও লবণ দিয়ে কী করবে ? ও দাত ঘষব। শালা দাঁতে পেইন উঠেছে।
সােমা লবণ আনতে গেল। তার কানে ঝনঝন করে বাজছে—দাঁত ঘষব । শালা দাঁতে পেইন উঠেছে। লােকটা কি ইচ্ছে করলে শালা শব্দটা বাদ দিতে পারত না ? বােধহয় না। এইসব শব্দ তার রক্তে মিশে আছে। এই ঘরে একটা সাদা রঙের বিড়াল আসে।বিড়ালটার একটা চোখ নষ্ট । তাই সে বিড়ালটাকে ডাকে কানাশালী।
বিড়ালটাকে শালী না ডাকলে কি চলত না ? সােমা ঝকঝকে একটা পিরিচের ঠিক মাঝখানে খানিকটা লবণ নিল। কিছু ছড়িয়ে গিয়েছিল—সাবধানে সে একত্র করল। অসুন্দর কোনােকিছুই তার ভাল লাগে না। যদিও তাকে বাস করতে হয় অসুন্দরের মধ্যে। | লােকটা তার হাত থেকে পিরিচ নিল। লবণ কত সুন্দর করে সাজানাে
Reviews
There are no reviews yet.