Product on sale
পুনর্ভবা- ওয়ালীউল্ল্যাহ সংখ্যা
প্রিন্ট / প্রকাশনী: Local print (Paper Back)
5 in stock
- Estimated Delivery : Up to 3 business days
- Free Shipping : On all orders over 1500 BDT
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ (১৯২২-১৯৭১) বাংলা সাহিত্যের এক ‘বামনাবতার’তুল্য সাহিত্যিক। কথাসাহিত্যে তিনি বঙ্গীয় মানসপট ও পাশ্চাত্য ভাবনাকে চিরকালীন মানুষের অন্তর্লোকে দাঁড়িয়ে প্রকাশ করেছেন। মূলত পূর্ববঙ্গ ও তার মানুষের প্রতিক্রিয়া-প্রবণতাকে সমকালীন পাশ্চাত্য দর্শন-ভাবনার সমান্তরালে চালিত করে কথাসাহিত্যে পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া আঞ্চলিক ভূমিরসের পাশাপাশি মানবের দেশকালাতীত প্রবণতা থেকেও তাঁর লেখা একদম বিচ্যুত না হওয়ায়, কার্যত তারা সকলই হয়ে ওঠে ওয়ালীউল্লাহ্’র সাহিত্যের ত্রিপাদ ভূমি। ফলে, বর্তমান বাংলা সাহিত্যে তাঁর জন্মশতবর্ষ পরেও তিনি হয়ে উঠছেন আরও প্রাসঙ্গিক। আর এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের ‘পুনর্ভবা’ পত্রিকাটিও প্রথম সংখ্যার শেষে দীর্ঘ সময়কাল পর দ্বিতীয় সংখ্যায় ওয়ালীউল্লাহ’র মাধ্যমে তার পুনর্ভব, বা আবার প্রকাশিত হতে পারার সুযোগে অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দ প্রকাশ করছে।
‘পুনর্ভবা’র এই সংখ্যাটিতে কয়েকজন প্রাবন্ধিক ও সমালোচক ওয়ালীউল্লাহ্’র সৃষ্টিকে বহুমাত্রিক জায়গা থেকে পর্যালোচনা করেছেন, যে বহুমাত্রিকতা ওয়ালীউল্লাহ্’র সাহিত্যেরই সহজাত অঙ্গ। যেমন, প্রথমেই তাঁর একটি গল্প ‘পরাজয়’ নিয়ে প্রাবন্ধিক লুৎফর রহমান মানবমনের আলো-অন্ধকার, ব্যক্তি ও তার শ্রেণির অস্তিত্বশীলতার পাশাপাশি কখনও তুলনামূলক ভঙ্গিতে সাহিত্য ক্ষেত্রে গল্পটির একটি অবস্থান বিন্দু নিরূপণ করেন। এর ফলে, গল্পটির একটি বহুকৌণিক বৈশিষ্ট্যও আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়। আবার, ওয়ালীউল্লাহ্’র কিছু অগ্রন্থিত গল্পের ভিত্তিতে অপর একটি প্রবন্ধে তেমনই আমাদের ব্যক্তির মনোজগতের সন্ধান দেন লেখক খুরশীদ আলম। এমনিতে খুরশীদ আলমের অনন্য ভাষা ব্যবহার ওয়ালীউল্লাহ্’র মনোজাগতিক ব্যঞ্জনাসমূহকে প্রকাশে দারুণভাবে সহায়ক হয়ে ওঠে। এভাবে আরও দেখা যায়, বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে ওয়ালীউল্লাহ’র উপন্যাসচর্চাকে তুলে ধরছেন বর্তমানকালের আরেক কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হক। মূলত, তিনি ওয়ালীউল্লাহ্’র সমসাময়িক বিশ্বসাহিত্য ও বাংলাসাহিত্যের উপন্যাস নির্মাণের কুশীলবদের ‘ছিলছিলা’য় ওয়ালীউল্লাহ্’কে চিহ্নিত করতে সচেষ্ট হয়েছেন। আবার, অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজের লেখা ‘অস্তিত্ববাদ ও ওয়ালীউল্লাহ্’ প্রবন্ধে বিশ্বদর্শন ও সাহিত্যে প্রভাববিস্তারী অস্তিত্ববাদের আলোকে ওয়ালীউল্লাহ্’র ‘লালসালু’ পাঠ আমরা লক্ষ্য করতে পারি। এখানে ‘লালসালু’র মজিদ, যে কিনা অস্তিত্বের লড়াইয়ে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে, এবং জীবনের তরে ধর্মকে ব্যবহারপূর্বক ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে প্রতারণার মধ্য দিয়ে হলেও যেকোনোভাবে নিয়তই তার আপন অস্তিত্বের লড়াই জারি রাখে। তাই প্রাবন্ধিক লিখছেন, “উদগ্র আত্মমুখিনতা মজিদকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে। পারিপার্শ্বিক সব ধরণের প্রতিকূলতাকে সে সামলে নেয়। তথাপি মজিদের অন্তর্জগতে বা অস্তিত্বের কেন্দ্রভাগে শূন্যতা, আশঙ্কা, নিঃসঙ্গতা প্রভৃতি নেতিবাচক বোধের জন্ম নেয়।” আদতে শত প্রতিকূলতা কী মানবিক অনুভূতির মধ্যে টিকে থেকে আপন অস্তিত্বের সম্যক উপলব্ধি, যেমন রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “আপদ আছে জানি আঘাত আছে, তাই জেনে তো বক্ষে পরাণ নাচে”- বস্তুত, সাত্রীয় অস্তিত্ববাদের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ওয়ালীউল্লাহ্’র ‘লালসালু’তেও মূর্ত হয়ে উঠতে দেখা যায়।
তাছাড়া, অত্র পত্রিকায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র মৃত্যুচেতনা কীভাবে তাঁর উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাহিত হয়েছে, এ নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন লেখক মোস্তফা তারিকুল আহসান। সেখানে প্রাবন্ধিক ওয়ালীউল্লাহ’র উপন্যাসের চরিত্রসমূহের ক্ষেত্রে মৃত্যুর যে মানবিক রূপ-রূপান্তর তা-ই তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, ওয়ালীউল্লাহ্’র ‘শিম কীভাবে রান্না করতে হয়’ (শিবব্রত বর্মণ অনূদিত) নামক স্যাটায়ারধর্মী উপন্যাসটির আলোচনায় খালেদা আহসান খেয়া দেখান, ঔপন্যাসিক উপনিবেশের চোখে প্রাচ্যের মানুষ সম্বন্ধনীয় বিবরণকে কীভাবে ফিকশনের আদল দিয়েছেন। আর উপন্যাসটি নিয়ে উক্ত প্রবন্ধে খালেদা আহসান খেয়া বলছেন, ‘ইউরোপীয়রা নিজেদের উচ্চতরভাবে, এশীয়দের নিকৃষ্টভাবে। সেই ভাবনার বিরুদ্ধে লেখক পাল্টা এক জবাব দিয়েছেন এই ছোট্ট উপন্যাসে।’ তাছাড়া লেখিকা আমাদের আরো জানান, প্রাচ্যবাদের চিহ্নায়ক এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রটির অভিজ্ঞতা প্রবাসী ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর আপন জীবন দিয়েও নিশ্চয়ই অনুভব করতে পেরেছিলেন, কেননা, দীর্ঘদিন পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশে চাকরির সুবাদে অবস্থান করতে হয় তাঁকে। ফলে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার রসে জারিত হয়ে সেই প্রাচ্যবাসী পর্যটকের রূপ পাঠকের কাছে এসে এই উপন্যাসটিতে ধরা দিয়েছে।
এমনিতে, ওয়ালীউল্লাহ্’র নাটক নিয়ে অত্র পত্রিকায় কোনো আলোচনা না থাকা, এর অপূর্ণতা হিসেবে বিবেচিত হতেই পারে। তবে নাট্যকার রুবাইয়াৎ আহমেদের একটি প্রবন্ধে আবহমান বাংলা নাট্যিরীতিতে প্রচলিত যে বর্ণনাত্মক ধারা, তার আলোয় সেলিম আল দীন প্রযোজিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসের মঞ্চ-অভিজ্ঞতার কথা একজন দর্শকের দৃষ্টিতে আলোচিত হতে দেখা যায়। আসলে, অবিকৃত রূপে নাটক হিসেবে উপন্যাসটির বর্ণনাত্মক ধারায় মঞ্চায়ন নিঃসন্দেহে ওয়ালীউল্লাহ্’র রচনারই এক অভিনব উপস্থাপনা। তাছাড়া, এই সংখ্যাটিতে আরও আছে ২০২৩ সালে ‘পুনর্ভবা’র পক্ষ থেকে নেয়া সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র ফ্রান্সে বাসরত কন্যা ও পুত্রের সাক্ষাৎকারের অনুবাদ। আপন সন্তানদিগের কন্ঠে একই
সাথে একজন পিতা ও একজন সাহিত্যিকের মূল্যায়ন অত্র পত্রিকাটিতে এক নতুন মাত্রার যোগ করেছে। আশা করি, অতীত-অনাগত কালে লিখিত ওয়ালীউল্লাহ বিষয়ক নানা পাঠের সঙ্গে এইসবও যুক্ত হবে, আর তাতে আনীত হবে নব নব মাত্রা।
পূনভর্বা : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সংখ্যা
Reviews
There are no reviews yet.